Dhaka 4:09 am, Sunday, 12 April 2026

কুড়িল বিশ্বরোডে মানসিক স্বাস্থ্য আক্রান্ত প্রবাসীকে পি’টি’য়ে আ’হ’ত!

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:16:22 am, Sunday, 22 February 2026
  • 154 Time View

পরিবারকে সামাজিকভাবে লা’ঞ্ছি’ত করার অভিযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য সংস্কারের দাবি জোরালো?

ঢাকা, কুড়িল বিশ্বরোড:

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সম্প্রতি এক উ’দ্বে’গ’জ’ন’ক ঘটনায় মাসখানেক আগে ইউরোপফেরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে মা’র’ধ’র করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে হা’ম’লা চালায়, যার ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

 

ভুক্তভোগী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ইউরোপে বসবাস করছিলেন।দেশে ফেরার পর তিনি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি এলাকায় কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন—যা দেখে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ‘অভিশাপ’ ও ‘পাগলামি’ হিসেবে আখ্যা দেয়।পরে তাকে বহিরাগত ও মানসিকভাবে অসুস্থ বলে আক্রমণ করা হয়।

 

পরিবারও সামাজিক নিগ্রহের শিকার

শুধু ভুক্তভোগীই নন,ঘটনার পর তার পরিবারকেও সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।পরিবারের সদস্যদের ‘পাগলের পরিবার’ বলে অপমান করা হয় এবং প্রতিবেশীদের কটূক্তি ও দোষারোপের মুখে পড়তে হয়। এক স্বজন বলেন, “মানসিক অসুস্থতার জন্য আমাদের পরিবারকে দায়ী করা হচ্ছে। কেউ সহানুভূতি দেখায়নি, বরং ল’জ্জা আর ভয় নিয়ে আমাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।”

 

কুসংস্কার ও সহিংসতার ভ’য়া’ব’হ চিত্র

ঘটনাটি বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও সহিংস মনোভাবের একটি ন’গ্ন উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মানসিক রোগকে এখনও সমাজের একটি বড় অংশ ‘লজ্জা’, ‘অভিশাপ’ বা ‘অ’শু’ভ’ হিসেবে দেখে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার উভয়ই সামাজিক বঞ্চনা ও নি’র্যা’ত’নে’র শিকার হন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “লোকজন বলছিল, এ ধরনের মানুষ এলাকায় থাকলে বিপদ আসে। কেউ ভাবেনি এটা একটা রোগ, যার চিকিৎসা দরকার।”

 

জরুরি সংস্কার ও সচেতনতার আহ্বান

মানবাধিকারকর্মী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অবিলম্বে সংস্কার প্রয়োজন। কমিউনিটি পর্যায়ে সহজলভ্য চিকিৎসা,আইন প্রয়োগের কার্যকর ব্যবস্থা এবং গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

 

তারা জোর দিয়ে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে অপরাধ বা সামাজিক ক’ল’ঙ্ক হিসেবে না দেখে একটি স্বাস্থ্যগত বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই ট্যাবু ভাঙতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ ও পরিবার এ ধরনের স’হিং’স’তা ও লা’ঞ্ছ’না’র শিকার হবে।

 

কুড়িল বিশ্বরোডের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ও কুসংস্কার শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো একটি পরিবারকে সমাজের প্রান্তে ঠেলে দেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে: জামায়াত আমির

কুড়িল বিশ্বরোডে মানসিক স্বাস্থ্য আক্রান্ত প্রবাসীকে পি’টি’য়ে আ’হ’ত!

Update Time : 08:16:22 am, Sunday, 22 February 2026

পরিবারকে সামাজিকভাবে লা’ঞ্ছি’ত করার অভিযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য সংস্কারের দাবি জোরালো?

ঢাকা, কুড়িল বিশ্বরোড:

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সম্প্রতি এক উ’দ্বে’গ’জ’ন’ক ঘটনায় মাসখানেক আগে ইউরোপফেরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে মা’র’ধ’র করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে হা’ম’লা চালায়, যার ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।

 

ভুক্তভোগী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ইউরোপে বসবাস করছিলেন।দেশে ফেরার পর তিনি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি এলাকায় কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন—যা দেখে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ‘অভিশাপ’ ও ‘পাগলামি’ হিসেবে আখ্যা দেয়।পরে তাকে বহিরাগত ও মানসিকভাবে অসুস্থ বলে আক্রমণ করা হয়।

 

পরিবারও সামাজিক নিগ্রহের শিকার

শুধু ভুক্তভোগীই নন,ঘটনার পর তার পরিবারকেও সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।পরিবারের সদস্যদের ‘পাগলের পরিবার’ বলে অপমান করা হয় এবং প্রতিবেশীদের কটূক্তি ও দোষারোপের মুখে পড়তে হয়। এক স্বজন বলেন, “মানসিক অসুস্থতার জন্য আমাদের পরিবারকে দায়ী করা হচ্ছে। কেউ সহানুভূতি দেখায়নি, বরং ল’জ্জা আর ভয় নিয়ে আমাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।”

 

কুসংস্কার ও সহিংসতার ভ’য়া’ব’হ চিত্র

ঘটনাটি বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও সহিংস মনোভাবের একটি ন’গ্ন উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মানসিক রোগকে এখনও সমাজের একটি বড় অংশ ‘লজ্জা’, ‘অভিশাপ’ বা ‘অ’শু’ভ’ হিসেবে দেখে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার উভয়ই সামাজিক বঞ্চনা ও নি’র্যা’ত’নে’র শিকার হন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “লোকজন বলছিল, এ ধরনের মানুষ এলাকায় থাকলে বিপদ আসে। কেউ ভাবেনি এটা একটা রোগ, যার চিকিৎসা দরকার।”

 

জরুরি সংস্কার ও সচেতনতার আহ্বান

মানবাধিকারকর্মী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অবিলম্বে সংস্কার প্রয়োজন। কমিউনিটি পর্যায়ে সহজলভ্য চিকিৎসা,আইন প্রয়োগের কার্যকর ব্যবস্থা এবং গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

 

তারা জোর দিয়ে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে অপরাধ বা সামাজিক ক’ল’ঙ্ক হিসেবে না দেখে একটি স্বাস্থ্যগত বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই ট্যাবু ভাঙতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ ও পরিবার এ ধরনের স’হিং’স’তা ও লা’ঞ্ছ’না’র শিকার হবে।

 

কুড়িল বিশ্বরোডের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ও কুসংস্কার শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো একটি পরিবারকে সমাজের প্রান্তে ঠেলে দেয়।