দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুদক, এবং তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে দুদক তার উপ-পরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে এই অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিমিন রহমান একটি হত্যা, শেয়ার জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তারা এখন এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির মধ্যে সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে দুদক তাদের অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে যাতে তারা কোনো ধরনের বেআইনি লেনদেন, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধকরণ বা সম্পত্তি জব্দের বিষয়ে পদক্ষেপ নেন।
ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে এই ঘুষের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, এবং সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে, তার ছোট বোন শাযরেহ হক গুলশান থানায় তার ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের হত্যার অভিযোগ করেন, যা বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
এদিকে, শাযরেহ হক আরও তিনটি মামলা করেছেন, যাতে সিমিন রহমানসহ অন্যান্য ট্রান্সকম কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
দুদক এই অনুসন্ধানে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং অভিযোগের ব্যাপক তদন্ত করা হচ্ছে। সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখছি। যদি প্রমাণিত হয় যে ঘুষ গ্রহণের ঘটনা সত্য, তবে সঠিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দুদক ইতিমধ্যে এই বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে এবং যদি প্রয়োজন হয়, তখন তারা সিমিন রহমানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে বা অন্যান্য সম্পত্তি জব্দ করার জন্য ব্যবস্থা নেবে।
ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর, তার স্ত্রী শাহনাজ রহমান এবং বড় মেয়ে সিমিন রহমানের মধ্যে গ্রুপের কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। ছোট মেয়ে শাযরেহ হক এই পরিবারীয় দ্বন্দ্বের কারণে মামলা দায়ের করেন। এর ফলে, ট্রান্সকম গ্রুপের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সিমিন রহমান, যিনি বর্তমানে গ্রুপের সিইও, এবং তার পরিবার এই সময়ে আইনগত এবং ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, ট্রান্সকম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
এছাড়া, দুদক ইতিমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে। বিশেষ করে, প্লট দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এখন ট্রান্সকম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের তদন্ত চলছে, এবং এর সাথে দেশের বৃহত্তম ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির ঘটনা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিশ্বে এক নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। দুটি বড় পরিবার ও একাধিক মামলা নিয়ে চলছে আইনগত প্রক্রিয়া। এই তদন্তের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনতে পারে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন 

















