ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ: ট্রান্সকম সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বিগ্ন দেশ: দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন ভারতের অনুমতি না মেলায় বুড়িমারীতে আটকা ভুটানের প্রথম ট্রানশিপমেন্ট চালান ট্রান্সকম সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের দায়ে নেসলের এমডি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ এর দুর্নীতির রাজত্ব, জিম্মি সেবাগ্রহীতারা নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা – সিইসি লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের উদ্বোধন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে গণভোট নিয়ে দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান সরকারের

নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের দায়ে নেসলের এমডি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাত করার দায়ে নেসলেই বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের দায়ে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) মোহাঃ কামরুল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলায় পবরতী শুনানির তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর।

নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেটের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলা (২০/২০২৫) চলমান রয়েছে। ওই মামলায় মামলায় কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের (৭ মকিম কাটারা, সাখাওয়াত ম্যানশন, চকবাজার ঢাকা) মালিক মো. মোজাম্মেল হোসাইনকে আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৫৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালত আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

ওই মামলার তদন্তে নেসলে বাংলাদেশের আমদানিকৃত কিট ক্যাট চকলেট ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানো হয়। সেই পরীক্ষাতেও নিম্নমানের বলে রিপোর্ট এসেছে। ল্যাবরেটরির রিপোর্টে বলা হয়েছে, চকলেটে দুধের কঠিন অংশ ১২ থেকে ১৪ শতাংশ অথবা তার ঊর্ধ্বে হওয়ার কথা, সেখানে ল্যাব পরীক্ষায় মাত্র ৯.৩১ শতাংশ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে দুগ্ধ চর্বির মান ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ কিংবা তার বেশি থাকার কথা, কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় মাত্র ১.২৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এমন রিপোর্ট দিয়েছে।

ওই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোহাঃ কামরুল হাসান। মামলার শুনানি শেষে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেওয়া হয়।

আগের মামলার বিষয়ে নেসলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বলা হয়, সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে কিছু খুচরা দোকানে কিট ক্যাট পণ্য সরবরাহ করার অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের হওয়ার সংবাদটি আমাদের নজরে এসেছে। আসলে বাংলাদেশে বাজারজাতকৃত কিট ক্যাট পণ্যগুলো কোনটাই এদেশে প্রস্তুতকৃত নয় বরং এগুলি ফিনিশড পণ্য হিসেবে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

প্রশ্নবিদ্ধ পণ্যটি নেসলে বাংলাদেশ আমদানি বা বিতরণ করেনি এবং সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে আমাদের (নেসলে বাংলাদেশ) কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এবার খোদ নেসলে বাংলাদেশের আমদানিকৃত চকলেট পরীক্ষায় মানহীন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নেসলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ১০ নভেম্বর স্বপ্ন এসিআই লজিস্টিকস থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনা পাঠানো হয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াছ জাহেদীর কাছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করা হলে তারা লিখেছে, পণ্যটি প্রচলিক বিএসটিআই প্রণীত বিডিএস (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড) মানের আওতাভূক্ত নয়। বিষয়টি বোধগম্য নয়, বাংলাদেশের দেশীয় নামকরা খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিডিএস মানের লোগো ব্যবহার করছে। মান প্রণয়ন না করা পর্যন্ত অন্য একটি দেশের উৎপাদিত পণ্য নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী বাজারজাত করার সুযোগ নেই।

আমদানি নীতি আদেশ ২০২১/২০২৪ অনুযায়ী বিএসটিআই হতে পরীক্ষণ পুর্বক ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়াই নেসলে কিট ক্যাট পণ্য দুবাই ও ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করে বাজারজাত ও বিক্রয় করে আসছে। এতে জনগণকে প্রতিনিয়ত ঠকানো হচ্ছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস (ইনার সার্কুলার রোড, ফকিরাপুল, ঢাকা) থেকে সংগ্রহ করা কিট ক্যাট মানসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দুধের কঠিন অংশ (ফ্যাটবিহীন দুধ/স্কিম মিল্ক পাউডার, ল্যাকটোজ) ১২ থেকে ১৪ শতাংশ অথবা তার ঊর্ধ্বে থাকার কথা। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্টে মাত্র ৯.১২ শতাংশ পাওয়া গেছে।
ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরপরেই বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের (আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস) ম্যানেজারকে নোটিশ করেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর। বিক্রেতা চকলেটগুলো (কিট ক্যাটগুলো) আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও উৎপাদনকারিকে (নেসলে) অপরাধী চিহ্নিত করেন।

মামলায় কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের (৭ মকিম কাটারা, সাখাওয়াত ম্যানশন, চকবাজার ঢাকা) মালিক মো. মোজাম্মেল হোসাইনকে আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৫৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানা গেছে।
কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের নম্বরে ফোন দিলে রিসিভ করেন তুহিন নামের এক ব্যক্তি। কিট ক্যাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। মালিক এখন বাইরে রয়েছে, তিনি এলে আপনাকে ফোন দিতে বলব।

সারা বিশ্বে বেশ সমাদৃত কিট ক্যাটের যাত্রা শুরু হয় ‘রাউনট্রি’স চকলেট ক্রিস্প’ নামে। ১৯৮৮ সালে নেসলে (সুইজারল্যান্ড) এটি অধিগ্রহণ করে কিট ক্যাট নামকরণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বজুড়ে নেসলে কোম্পানি এই চকোলেটটি উৎপাদন করে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করে হার্শে কোম্পানি। বহুজাতিক কোম্পানির ওই পণ্যের গুণগতমানের অবস্থা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তারা বলেছেন, এ রকম একটি নামকরা কোম্পানি যদি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে কার ওপর আস্থা রাখব। নেসলের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ: ট্রান্সকম সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের দায়ে নেসলের এমডি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাত করার দায়ে নেসলেই বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের দায়ে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) মোহাঃ কামরুল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলায় পবরতী শুনানির তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর।

নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেটের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলা (২০/২০২৫) চলমান রয়েছে। ওই মামলায় মামলায় কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের (৭ মকিম কাটারা, সাখাওয়াত ম্যানশন, চকবাজার ঢাকা) মালিক মো. মোজাম্মেল হোসাইনকে আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৫৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালত আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

ওই মামলার তদন্তে নেসলে বাংলাদেশের আমদানিকৃত কিট ক্যাট চকলেট ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানো হয়। সেই পরীক্ষাতেও নিম্নমানের বলে রিপোর্ট এসেছে। ল্যাবরেটরির রিপোর্টে বলা হয়েছে, চকলেটে দুধের কঠিন অংশ ১২ থেকে ১৪ শতাংশ অথবা তার ঊর্ধ্বে হওয়ার কথা, সেখানে ল্যাব পরীক্ষায় মাত্র ৯.৩১ শতাংশ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে দুগ্ধ চর্বির মান ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ কিংবা তার বেশি থাকার কথা, কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় মাত্র ১.২৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এমন রিপোর্ট দিয়েছে।

ওই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোহাঃ কামরুল হাসান। মামলার শুনানি শেষে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেওয়া হয়।

আগের মামলার বিষয়ে নেসলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বলা হয়, সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে কিছু খুচরা দোকানে কিট ক্যাট পণ্য সরবরাহ করার অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের হওয়ার সংবাদটি আমাদের নজরে এসেছে। আসলে বাংলাদেশে বাজারজাতকৃত কিট ক্যাট পণ্যগুলো কোনটাই এদেশে প্রস্তুতকৃত নয় বরং এগুলি ফিনিশড পণ্য হিসেবে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

প্রশ্নবিদ্ধ পণ্যটি নেসলে বাংলাদেশ আমদানি বা বিতরণ করেনি এবং সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে আমাদের (নেসলে বাংলাদেশ) কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এবার খোদ নেসলে বাংলাদেশের আমদানিকৃত চকলেট পরীক্ষায় মানহীন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নেসলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ১০ নভেম্বর স্বপ্ন এসিআই লজিস্টিকস থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনা পাঠানো হয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াছ জাহেদীর কাছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করা হলে তারা লিখেছে, পণ্যটি প্রচলিক বিএসটিআই প্রণীত বিডিএস (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড) মানের আওতাভূক্ত নয়। বিষয়টি বোধগম্য নয়, বাংলাদেশের দেশীয় নামকরা খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিডিএস মানের লোগো ব্যবহার করছে। মান প্রণয়ন না করা পর্যন্ত অন্য একটি দেশের উৎপাদিত পণ্য নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী বাজারজাত করার সুযোগ নেই।

আমদানি নীতি আদেশ ২০২১/২০২৪ অনুযায়ী বিএসটিআই হতে পরীক্ষণ পুর্বক ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়াই নেসলে কিট ক্যাট পণ্য দুবাই ও ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করে বাজারজাত ও বিক্রয় করে আসছে। এতে জনগণকে প্রতিনিয়ত ঠকানো হচ্ছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস (ইনার সার্কুলার রোড, ফকিরাপুল, ঢাকা) থেকে সংগ্রহ করা কিট ক্যাট মানসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে দুধের কঠিন অংশ (ফ্যাটবিহীন দুধ/স্কিম মিল্ক পাউডার, ল্যাকটোজ) ১২ থেকে ১৪ শতাংশ অথবা তার ঊর্ধ্বে থাকার কথা। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্টে মাত্র ৯.১২ শতাংশ পাওয়া গেছে।
ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরপরেই বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের (আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস) ম্যানেজারকে নোটিশ করেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর। বিক্রেতা চকলেটগুলো (কিট ক্যাটগুলো) আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও উৎপাদনকারিকে (নেসলে) অপরাধী চিহ্নিত করেন।

মামলায় কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের (৭ মকিম কাটারা, সাখাওয়াত ম্যানশন, চকবাজার ঢাকা) মালিক মো. মোজাম্মেল হোসাইনকে আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৫৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানা গেছে।
কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের নম্বরে ফোন দিলে রিসিভ করেন তুহিন নামের এক ব্যক্তি। কিট ক্যাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। মালিক এখন বাইরে রয়েছে, তিনি এলে আপনাকে ফোন দিতে বলব।

সারা বিশ্বে বেশ সমাদৃত কিট ক্যাটের যাত্রা শুরু হয় ‘রাউনট্রি’স চকলেট ক্রিস্প’ নামে। ১৯৮৮ সালে নেসলে (সুইজারল্যান্ড) এটি অধিগ্রহণ করে কিট ক্যাট নামকরণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বজুড়ে নেসলে কোম্পানি এই চকোলেটটি উৎপাদন করে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করে হার্শে কোম্পানি। বহুজাতিক কোম্পানির ওই পণ্যের গুণগতমানের অবস্থা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তারা বলেছেন, এ রকম একটি নামকরা কোম্পানি যদি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে কার ওপর আস্থা রাখব। নেসলের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ।