ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন
আওয়ামীপন্থি পরিচয়ে দখলে রেখেছেন পছন্দের স্থান
দুর্নীতি করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়
অনুসন্ধানী রিপোর্ট
রাজধানীর খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আর এই দুর্নীতির মূল হোতা খোদ সাব-রেজিস্ট্রার মাইনুদ্দিন (যিনি মাইকেল মহিউদ্দিন নামেই বেশি পরিচিত)। সরকারি এই দপ্তরটিকে জিম্মি করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ঘুষ-বাণিজ্যের সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার তার নিজস্ব খাস কামরায় বসেই অবৈধ লেনদেনের রফাদফা করেন এবং ঘুষের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ দলিলেও স্বাক্ষর করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খিলগাঁও অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিনের দুর্নীতির রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে কাজ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের পরিচালনায় রয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী এক সহযোগী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ও অফিসের কর্মচারীরা জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের এই ‘ডান হাত’ খ্যাত সহযোগীর ইশারা ছাড়া কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। দলিলের বৈধতা বা অবৈধতা বিচার করার চেয়ে ওই সহযোগীর সংকেতকেই বেশি গুরুত্ব দেন সাব-রেজিস্ট্রার। দিনের শেষে অবৈধভাবে উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা ওই সহযোগীর মাধ্যমেই সাব-রেজিস্ট্রার মাইনুদ্দিনের বাসায় পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খিলগাঁও অফিসে যোগদানের পর থেকেই যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন মাইকেল মহিউদ্দিন। দুর্নীতির মাধ্যমে কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং দামি গাড়ির মালিকানা রয়েছে।
শুধু অর্থবিত্তই নয়, নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি প্রভাব খাটাচ্ছেন সাব-রেজিস্ট্রারদের সমিতিতেও। বর্তমানে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। এই পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন এবং খিলগাঁও অফিসকে কার্যত নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপান্তর করেছেন।
এতসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মাইনুদ্দিনের (মাইকেল মহিউদ্দিন) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সদুত্তর এড়িয়ে যান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, “ভাই আসেন, চা খাই।” দুর্নীতির মতো গুরুতর প্রশ্নের জবাবে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন উদাসীন ও আপসকামিতা আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
(বি:দ্র: এই সিন্ডিকেটের বিস্তারিত তথ্য, অবৈধ সম্পদের বিবরণ এবং সচিত্র প্রমাণাদি আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।)

অনলাইন ডেস্ক 

















