অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের সরকার ঘোষণা করেছে যে, দেশটির পুলিশ এখন থেকে অবৈধ অভিবাসীদের পোশাক এবং মুখ তল্লাশি করতে পারবে। এই নতুন নীতি অনুযায়ী, পুলিশের কাছে অভিবাসীদের কোট, জ্যাকেট বা দস্তানা খুলে তল্লাশি করার ক্ষমতা থাকবে, এবং প্রয়োজনে তাদের মুখের ভেতরেও তল্লাশি চালানো হবে।
এটি মূলত ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে মানবপাচারকারীদের সহায়তায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, পাচারকারী চক্রগুলো প্রায়ই ফোন, সামাজিক মাধ্যম এবং যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে ফ্রান্স থেকে অভিবাসীদের ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আনতে সাহায্য করে।
সরকার আশা করছে যে, এই নতুন আইন শিগগিরই ‘রয়্যাল অ্যাসেন্ট’ পেতে পারে, যা কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা। এর ফলে পুলিশকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
পূর্বে পুলিশকে কেবল গ্রেপ্তারের পরই মোবাইল ফোন তল্লাশি করার ক্ষমতা ছিল, তবে নতুন আইন অনুযায়ী তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের কাছে অর্থনীতির তুলনায় অভিবাসন এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারিভাবে আশ্রয়প্রার্থী হোটেলে থাকার বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিক্ষোভও হয়েছে।
তবে কিছু মানবাধিকার সংগঠন নতুন নীতির বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, এই ধরনের তল্লাশি অভিবাসীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে এবং জাতিগত বিদ্বেষ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে। ফ্রিডম ফ্রম টরচার-এর আশ্রয় এবং অ্যান্টি-টরচার অধিকার প্রধান সাইল রেইনল্ডস বলেছেন, ‘‘চ্যানেল পার হওয়ার পর হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে কষ্টগ্রস্ত মানুষের তল্লাশি করা অত্যাচারের সমান।’’

অনলাইন ডেস্ক 





















