ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ: ট্রান্সকম সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বিগ্ন দেশ: দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন ভারতের অনুমতি না মেলায় বুড়িমারীতে আটকা ভুটানের প্রথম ট্রানশিপমেন্ট চালান ট্রান্সকম সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের দায়ে নেসলের এমডি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ এর দুর্নীতির রাজত্ব, জিম্মি সেবাগ্রহীতারা নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা – সিইসি লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের উদ্বোধন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে গণভোট নিয়ে দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান সরকারের

ট্রান্সকম সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

দুদক ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নেমেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে—তার ভাই হত্যার দায় এড়াতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই সংস্থার একজন উপপরিচালককে এ বিষয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, হত্যাসহ শেয়ার জালিয়াতি ও প্রতারণার মতো একাধিক মামলাকে ‘চাপা দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে এই ঘুষ প্রদান করা হয়েছিল।

দুদকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি কতটা সত্য এবং এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কী—তা যাচাই করা হচ্ছে। ৫ নভেম্বর এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি জানান, কাজ বর্তমানে চলমান এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখার পরিচালক তদারকি করছেন।

দুদকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কমিশনের বৈঠকে অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা বা সম্পদ জব্দের প্রস্তাবও করতে বলা হয়েছে। এর আগেই প্লট দুর্নীতিসহ তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট, টোল ও অনুদানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের আরও অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা, তদন্ত ও অনুসন্ধান চলছে। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা হয়েছে, যার তিনটির রায় হয়েছে বৃহস্পতিবার।

জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

অন্যদিকে, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তার ছোট বোন শাযরেহ হক। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ গুলশান থানায় করা মামলায় সিমিন রহমান, তার ছেলে এবং কোম্পানির আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

২০২৩ সালের ১৬ জুন গুলশানের বাসায় আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ সিমিন রহমানসহ তিনজনকে দেশে ফিরলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল।

শাযরেহ হক এর আগেও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও অবৈধ শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছিলেন। সে সময় ট্রান্সকমের পাঁচজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয় এবং পিবিআই কোম্পানির হেড অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিও জব্দ করে।

২০২০ সালের ১ জুলাই ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমান মারা গেলে পরের মাসে তার স্ত্রী শাহনাজ রহমান চেয়ারম্যান এবং বড় মেয়ে সিমিন রহমান সিইও হন। পরে সাড়ে তিন বছরের মাথায় ছোট মেয়ে শাযরেহর মামলার মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে শাহনাজ রহমান চেয়ারম্যান, সিমিন রহমান সিইও এবং শাযরেহ হক গ্রুপের একজন পরিচালক।

নতুন করে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান সম্পর্কে ট্রান্সকম গ্রুপের মিডিয়া, লিগ্যাল বা জনসংযোগ বিভাগের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ: ট্রান্সকম সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

ট্রান্সকম সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

দুদক ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নেমেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে—তার ভাই হত্যার দায় এড়াতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই সংস্থার একজন উপপরিচালককে এ বিষয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, হত্যাসহ শেয়ার জালিয়াতি ও প্রতারণার মতো একাধিক মামলাকে ‘চাপা দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে এই ঘুষ প্রদান করা হয়েছিল।

দুদকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি কতটা সত্য এবং এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কী—তা যাচাই করা হচ্ছে। ৫ নভেম্বর এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি জানান, কাজ বর্তমানে চলমান এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখার পরিচালক তদারকি করছেন।

দুদকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কমিশনের বৈঠকে অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা বা সম্পদ জব্দের প্রস্তাবও করতে বলা হয়েছে। এর আগেই প্লট দুর্নীতিসহ তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট, টোল ও অনুদানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের আরও অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা, তদন্ত ও অনুসন্ধান চলছে। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা হয়েছে, যার তিনটির রায় হয়েছে বৃহস্পতিবার।

জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

অন্যদিকে, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তার ছোট বোন শাযরেহ হক। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ গুলশান থানায় করা মামলায় সিমিন রহমান, তার ছেলে এবং কোম্পানির আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

২০২৩ সালের ১৬ জুন গুলশানের বাসায় আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ সিমিন রহমানসহ তিনজনকে দেশে ফিরলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল।

শাযরেহ হক এর আগেও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও অবৈধ শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছিলেন। সে সময় ট্রান্সকমের পাঁচজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয় এবং পিবিআই কোম্পানির হেড অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিও জব্দ করে।

২০২০ সালের ১ জুলাই ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমান মারা গেলে পরের মাসে তার স্ত্রী শাহনাজ রহমান চেয়ারম্যান এবং বড় মেয়ে সিমিন রহমান সিইও হন। পরে সাড়ে তিন বছরের মাথায় ছোট মেয়ে শাযরেহর মামলার মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে শাহনাজ রহমান চেয়ারম্যান, সিমিন রহমান সিইও এবং শাযরেহ হক গ্রুপের একজন পরিচালক।

নতুন করে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান সম্পর্কে ট্রান্সকম গ্রুপের মিডিয়া, লিগ্যাল বা জনসংযোগ বিভাগের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।